1. admin@dailypratidinerbarta.com : admin :
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আজ দৈনিক প্রতিদিনের বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ ফিরোজ শাঁইয়ের শুভজন্মদিন নিপুণ কে, কি এবং কি করেন, তা তার নিজেরই ভেবে দেখা উচিৎ- ডিপজল মুন্সীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মিরাপাড়া নির্মিত হচ্ছে মসজিদ ও কমপ্লেক্স এর নতুন চিত্র। তুষারধারায় চেয়ারম্যান সেন্টুর নির্দেশে প্যানেল চেয়ারম্যান অনামিকা আরসিসি রাস্তার কাজের শুভ উদ্বোধন করলেন  কয়রায় অসংক্রামক রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন নাইকো দুর্নীতি মামলা খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে সাবেক বাপেক্স এমডির সাক্ষ্য মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতায় অটিজম বিভাগে প্রথম স্হান অর্জন করেছেন,কয়রার রায়াত মুন্সীগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটি সভায় কিশোর গ্যাং মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকা। ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ কর্তৃক মাদক সহ আটক -৭

সদস্যদের অনুদানের দায়িত্ব নিতে চায় পুলিশ

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ৬০ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্ক:-
চাকরিরত অবস্থায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্য ও স্থায়ীভাবে পঙ্গু হওয়া ৫৬৮টি আবেদনের মধ্যে ১৭৯টি আবেদনের অনুমোদন হয়নি গত তিন বছরে। পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে বিভিন্ন সময় ধরনা দেওয়ার পরও অনুদানের টাকা পায়নি পরিবার। অনেক পুলিশ সদস্যের পরিবার এখন অনুদানের টাকা পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছে।

জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার কিংবা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত তিন বছরে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৩৮৯টি আবেদন। অনুদানের টাকা অনুমোদনের জন্য বিভাগীয় কমিশনার কিংবা জেলা প্রশাসকের কাছে শুধু পুলিশের আবেদন এককভাবে অনুমোদন হয় না। সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিংবা জেলার সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু কিংবা স্থায়ী অক্ষম হওয়াদের অনুদান সব একসঙ্গে এনে বিবেচনা করে অনুদান দেওয়া হয় বলে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। চলমান বেশ কিছু আবেদন আটকে থাকায় আবেদনের অনুদান এবং বাজেট পুলিশ সদর দফতরের ওপর ন্যস্ত করতে জোরালো হয়ে উঠেছে পুলিশের এই দাবি। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘আগে যখন চাকরিরত নিহত পুলিশ সদস্যদের অনুদানের বিষয়টি সরাসরি পুলিশ সদর দফতরের আওতাধীন ছিল, তখন কোনও সদস্য নিহত কিংবা কোনও সদস্য স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে গেলে তাদের অনুদানের টাকা দ্রুত পেয়ে যেতেন। পরে সরকার চাকরিরত অবস্থায় সরকারি সদস্যদের মৃত্যু এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে তাদের অনুদানের টাকাও বাড়ানো হয়। তখন এই অনুদানের ভার ন্যস্ত করা হয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে। পরবর্তী সময়ে শুধু পুলিশ সদস্য নন, অন্যান্য সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নিহত কিংবা স্থায়ীভাবে অক্ষম সদস্যদের সবার আবেদন একসঙ্গে বিবেচনা করা হয় যে কারণে অনেকটাই দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। পরিবারের কোনও সদস্যকে হারালে অনুদানের টাকা পাওয়ার জন্য অনেককেই দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। যে কারণে পুলিশ সদস্যদের আবেদন দেওয়ার পর আর কোনও কিছু করার থাকছে না। অনেক পরিবার বিভিন্ন সময় অনুদানের টাকা পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় প্রশাসনের কাছে ধরনা দিলেও কাজ না হওয়ায় অনেক পরিবার সেই টাকা পাবে না বলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, যা আমাদের পুলিশ সদস্যদের জন্য খুবই দুঃখজনক।’

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ২০২৩ সালের অনুষ্ঠিত হওয়া পুলিশ সপ্তাহে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর কাছেও দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ নিজেদের কাছে বাহিনীর সদস্যদের এই আর্থিক অনুমোদনের বিষয়টি এলে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই টাকা হাতে পাবেন। বর্তমানে এ নিয়ে অনেকটাই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে টাকার অনুমোদন পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে পরিবারের প্রিয়জনকে হারিয়ে। যা অনেকটাই আক্ষেপের সৃষ্টি হয়েছে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।’

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মৃত্যু ও স্থায়ী অক্ষমতার জন্য ১৮৯টি আবেদন দেশের বিভিন্ন জেলায় দেওয়া হয়। সব কটির অনুমোদনও মেলে। ২০১৯ সালে ১৯৫টি আবেদনের সবগুলো অনুমোদন মেলে। ২০২০ সালেও ১৬৫টি আবেদনকারী সবাই পান তাদের প্রাপ্য অর্থ। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালে ৫৬৮টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৮৯টি আবেদন অনুমোদন পায়। এখনও আবেদন করে প্রাপ্য টাকার জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ধরনা দিচ্ছেন ১৭৯টি পুলিশ পরিবার।

সূত্র আরও জানায়, ২০২০ সালে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী পুলিশ ও নন-পুলিশের সংখ্যা ছিল ৯৪ জন। তাদের অনুদানের টাকার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফাইল পাঠানো হয় ৯১ জনের। এর মধ্যে অনুদান পায় ৭২টি পরিবার। এখনও অনুদানের টাকা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ১৯টি পরিবার। এ ছাড়া ২০২১ সালে ৩০২ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে ২৯৩টি পরিবারের আবেদনের পাঠানো হয়। অনুমোদন দেওয়া হয় ২৩৭টি আবেদনের। বাকি রয়েছে ৫৬টি পরিবারের আবেদনের টাকা অনুমোদনের।

২০২২ সালে ২২৪ জন মৃত্যবরণকারীর মধ্যে ১৮৪টি আবেদন বিভাগের কমিশনার কিংবা জেলা প্রশাসকের বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরই মধ্যে ৮০টি অনুদান মঞ্জুর হলেও এখনও বাকি আছে ১০৪টি।

পুলিশ সদর দফতর বলছে, আর্থিক অনুদান প্রদান নীতিমালা ২০২০ সংশোধিত অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনের চাকরিরত অবস্থায় কোনও সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারের সদস্য ৮ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষম হলে চার লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রাপ্য হবেন। এই নীতিমালার সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত কিংবা গুরুতর আহত পুলিশ সদস্যদের এককালীন থেকে অনুদান প্রদান-সংক্রান্তি মন্ত্রণালয় আগে জারি করা সব সরকারি আদেশ বাতিল করেছে। পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ ও গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতাজনিত আর্থিক অনুদানের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের হাতে অনুদানসহ বাজেটের বিষয়টি পুনরায় দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের হেলথ ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড পেনশন শাখার এআইজি মো. নাজমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশ পরিবারের অনেক সদস্য, যারা চাকরিরত অবস্থায় মারা গেছেন, তাদের অনেকেই তিন বছর হয়ে গেলেও প্রাপ্য অনুদান পাচ্ছেন না। আমরা ফরোয়ার্ডিং করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের মাধ্যমে অনুদানের আবেদন পাঠাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দীর্ঘ সময় ক্ষেপণের কারণে আমরা মনে করি যদি আর্থিক অনুদান ও এর বাজেট পুলিশের হাতে দেওয়া হয়, তাহলে যেকোনও ধরনের দীর্ঘসূত্রতা থেকে রেহাই পাবে নিহত কিংবা স্থায়ী অক্ষম পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ © দৈনিক প্রতিদিনের বার্তা ©
Theme Customized By Shakil IT Park