1. admin@dailypratidinerbarta.com : admin :
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুবাই বিমানবন্দর ৯ কোটি যাত্রীকে আতিথেয়তা দিয়েছে। আরও এক প্রতিবাদী কৃষকের মৃত্যু, পরিবারকে চাকরির দাবি  মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ‍্যমন্ত্রী মনোহর যোশী প্রয়াত  নতুন সিনেমায় শিশির সরদার ৫ বছরে দেশকে যে জায়গায় নিয়ে যেতে চান কাউখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। ঠাকুরগাঁওয়ে ৬শ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার ঈদে ৬ দিন ছুটি পাচ্ছে আমিরাতের বাসিন্দারা কয়রায় স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা’র জন্ম বার্ষিকী পালন পীরগাছায় মিলিনিয়াম চাইল্ড স্কুলে সপ্তাহ ব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব

বিতর্কের মধ্যেও ‘গুড ইমেজ’ তৈরিতে তৎপর মমতার তৃণমূল

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ৫৩ বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট:-
আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের কর্মসূচি, ‘দুয়ারে দূত’। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বির্তক। শিক্ষক নিয়োগ, গরু-কয়লা পাচারসহ একাধিক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তৃণমূল এখন এই কর্মসূচি নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে গুড ইমেজ গড়তে তৎপর। কিন্তু দিদির প্রতিনিধি হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যারাই পৌঁছাচ্ছেন তারা সাংসদ-বিধায়ক, তৃণমূল নেতা যেই হন না কেন, তাদের ঘিরে ধরে চলছে বিক্ষোভ। এসব দেখে বিজেপিসহ রাজ্যেও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া, দুয়ারে দূত দেখলেই খেদাচ্ছে বাংলা!

প্রতিদিনই বাংলার জেলায় জেলায় বিক্ষোভের মুখে দিদির দূতেরা। ফলে তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল আর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রতিদিন স্পষ্ট হচ্ছে। গেরুয়া পক্ষ ত্যাগ করে তৃণমূলে যাওয়া বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস পর দু’বার বাগদায় গ্রামবাসী আর দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। অপর বিজেপি ত্যাগী সাংসদ অর্জুন সিং পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকে তৃণমূলের দিদির সুরক্ষাকবচ কর্মসূচিতে গেলে তার সামনে ক্ষোভ করে গ্রামবাসীরা। দলের অন্যতম মুখ আইটি সেলের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে মুখ গ্রামবাসীদের প্রবল বিক্ষোভে সভা না করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।

কোচবিহারের দিনহাটায় এই কর্মসূচি পালন করতে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ এবং মন্ত্রী বুলুচিক বরাইক। আর তাদের সামনে পেয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। উদয়ন গুহকে গ্রামের এক যুবক অভিযোগ করে বলেন,‘টাকা দিয়েও জব কার্ড দিচ্ছে না।’ মন্ত্রী যুবকের উত্তরে বিষয়টির সমাধানে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘যদি এমন কোনও ঘটনা ঘটে তাহলে টাকা ফেরত দিয়ে দিন।’

আরকে গ্রামবাসী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম বৌদি জবকার্ড বানিয়ে দাও। কিন্তু জব কার্ড হলো না। আমাকে বললো জব কার্ড বানানোর জন্য দৌঁড়াদৌড়ি করতে হবে। তার জন্য দু’হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু টাকা দিয়েও মিললো না।’

বীরভমের ময়ূরেশ্বরে বোলপুরে তৃণমূল সাংসদ দিদির দূত অসিত মালকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে। অভিযোগ রয়েছে, ১১ বছরে একটা রাস্তা, পানির কল, নিকাশির কোনও কাজ করেনি তৃণমূল। মানুষের বিক্ষোভে ফিরতে মুর্শিদাবাদ থেকে ফিরে যেতে হয় সাংসদ আবু তাহেরকে। আর মুখপাত্র কুনাল ঘোষকে ফিরিয়ে দিয়েছিল মেদিনীপুর। বর্ধমানের গলসিতে সেখানে তৃণমূলের বিধায়ক নেপাল ঘোড়ূইকে গ্রামেই ঢুকতে দেয়নি গ্রামবাসীরা। তাদের অভিযোগ, আগের কখনও শাসক দলের কোন নেতারই মুখ দেখা যায় না গ্রামে। ভোট এসেছে বলে ফের আসছে। বীরভূমের মেলেরডাঙায় একই বিক্ষোভের মুখোমুখি হন সাংসদ শতাব্দী রায়ও। শতাব্দীর সঙ্গীরা কাজ না হওয়ার নানারকম ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সে কথা শুনতে রাজি ছিলেন না সাধারণ মানুষ। যদিও এই শতাব্দী রায়ই উনিশের লোকসভা নির্বাচনের বলেছিলেন,প্রকাশ্য জনসভায় আগে পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে তাকে দেখতে হতো। ভোটে জিতলে বিনা পয়সায় দেখেতে পাবেন নিয়মিত। কিন্তুগত তিনবারের সাংসদকে তিনবারের বেশি দেখেনি বীরভূমের বেশিরভাগ অঞ্চলের মানুষ। এমনটাই বলছেন তারা।

মানুষের বিক্ষোভে মুর্শিদাবাদ থেকে ফিরে আসতে হয় আরেক সাংসদ আবু তাহেরকে। আর মুখপাত্র কুনাল ঘোষকে ফিরিয়ে ছিল মেদিনীপুর। এটাই এমন সামগ্রিক গ্রাম বাংলার চিত্র। এরই মধ্যে এই দিদির সুরক্ষা কবচ কর্মসূচিতে প্রশ্ন তুলে দত্তপুকুরে তৃণমূল কর্মীর হাতে যুবকের চড় খাওয়ার ঘটনা ঘিরে শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। যাকে চড় মারা হয় তিনি বিজেপির মণ্ডল কমিটির সভাপতি সাগর বিশ্বাস। যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিরোধী শিবিরে।

এ নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আপাতত চড় মেরেছে। এরপর গাছে বাঁধবে।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘এরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। এদের অহংকার এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যে পতনের সময় এসে গেছে। তাই জনগণের সঙ্গে এরকম ব্যবহার করছে। তবে জনগণের লাথি যেদিন পড়বে সেদিন এদের কুকুর বেড়ালও রাস্তায় পাত্তা দেবে না।’

এদিকে চুঁচুড়া বিধানসভার দেবানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দিদির দূত নয়,দিদির ভূত লেখা পালটা পোস্টার দিয়েছে বিজেপি। এ নিয়ে কটাক্ষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পঞ্চায়েতকে লুঠের জায়গা করেছে। বলছে নাকি সুরক্ষা দেবে, বাড়িতে আসবে দিদির দূত, ওরা আসলে দিদির ভূত। সাদা খাতায় চাকরি দেয় এই ভূত। আসবে দিদির দূত।’

বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দাবি,‘দিদির দূতদের সাধারণ মানুষ ঝাঁটাপেটা করছেন।’ তিনি বলেন,‘ সব জায়গাতেই এরকম বিক্ষোভ হবে, হচ্ছেও। গ্রামের মানুষ এই তৃণমূলের দিদির দূতদের ঝাঁটা পিটিয়ে বিদায় করছেন। এরপর গাঁধার পিঠে চড়িয়ে ঘোল ঢেলে বিদায় করবে। ২০১৮ সাল থেকে যেভাবে পঞ্চায়েতে লুঠ হয়েছে বলার নয়। অধিকাংশতেই তো তৃণমূল জেতেনি, লুঠ করেছে। এরপরই এই ভুয়ো প্রধানরা চুরি করেছে।’মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) কলকাতার নিউটাউনে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে দিলীপ ঘোষও খোঁচা দেন। তিনি বলেন, ‘ওনারা ভেবেছিলেন চোখ দেখিয়ে আঙ্গুল দেখিয়ে যেরকম চলছে, সেরকমই চলবে। সেটা হচ্ছে না। আঙুর ফল টক। উনি বলছেন ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকা উচিৎ। তাহলে অম্বিকেশ মহাপাত্রকে জেলে ঢুকিয়েছিলেন কেন? উনি তো একটা কার্টুন শেয়ার করেছিলেন।’

যেভাবে প্রতিদিন এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ বাড়ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন,এর প্রভাব কি আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে পড়তে চলেছে? তবে কি দুয়ারে দিদির দূতেদের খেদাতে তৈরি হচ্ছেন বাংলার সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ © দৈনিক প্রতিদিনের বার্তা ©
Theme Customized By Shakil IT Park