1. admin@dailypratidinerbarta.com : admin :
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আজ দৈনিক প্রতিদিনের বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ ফিরোজ শাঁইয়ের শুভজন্মদিন নিপুণ কে, কি এবং কি করেন, তা তার নিজেরই ভেবে দেখা উচিৎ- ডিপজল মুন্সীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মিরাপাড়া নির্মিত হচ্ছে মসজিদ ও কমপ্লেক্স এর নতুন চিত্র। তুষারধারায় চেয়ারম্যান সেন্টুর নির্দেশে প্যানেল চেয়ারম্যান অনামিকা আরসিসি রাস্তার কাজের শুভ উদ্বোধন করলেন  কয়রায় অসংক্রামক রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন নাইকো দুর্নীতি মামলা খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে সাবেক বাপেক্স এমডির সাক্ষ্য মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতায় অটিজম বিভাগে প্রথম স্হান অর্জন করেছেন,কয়রার রায়াত মুন্সীগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটি সভায় কিশোর গ্যাং মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকা। ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ কর্তৃক মাদক সহ আটক -৭

ট্রলারে গরু তুলতে গলায় রশি বেঁধে চলে টানাটানি

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ৫৭ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্ক:-
এক গরু ট্রলারে তুলতে কাজ করে ৪ থেকে ৫ জন শ্রমিক। একজন গরুর গলায় রশি দিয়ে ট্রলার থেকে টানছেন আর একজন নিচ থেকে গরুকে ধাক্কা দিচ্ছেন। ভয়ে এক পা এগিয়েও দুই পা পিছিয়ে নিচ্ছে গরু।

এমনি দৃশ্যের দেখা মেলে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের চতলার খালে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু এনে এভাবেই ট্রলারে করে নৌ পারাপারের মাধ্যমে হাতিয়ায় নেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রলারে তুলতে গরুর গলায় রশি বেঁধে চলছে টানাটানি। ট্রলারের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে না পেরে দুইবার নদীতে পড়ে যায় গরুটি। তবু চলছে টানাটানি। শ্রমিকেরা টেনে হিঁচড়ে, প্রচণ্ড আঘাত করে আবার কখনো নাকের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে গরুগুলোকে ট্রলারে তোলেন। মূলত ঘাটে পল্টুনের অভাবেই নির্মমতার শিকার হয় এই অসহায় প্রাণীগুলো।

শ্রমিক আইয়ুব মাঝি বলেন, গরুগুলোকে মাটি থেকে ট্রলারে উঠাইতে হয়। পল্টুন থাকলে ভালো হইতো কিন্তু যেটা নাই সেটার কথা বলে লাভ নাই। যখন গরু ট্রলারে উঠতে চায় না তখন আমরা এক পা তুলে দেই। এরপর না উঠতে চাইলে দুই পা ট্রলারে তুলে দেই। তাও উঠতে না চাইলে পিছন থেকে ধাক্কা দেই। কিছু রাগ করে উঠাইতে হয়, আবার কিছু হালকা কষ্ট দিয়ে উঠাইতে হয়।

৪০ বছর ধরে গরু ট্রলারে গরু আনা নেওয়া করছেন শ্রমিক মো. রিয়াজ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকে বগুড়া থেকে গরুগুলো হাতিয়া নিচ্ছি। ৪০ বছর ধরে এ পেশায় আছি। কোনো গরু কসাইদের কাছে যাবে আবার কোনোটা মানুষ পালবে। আমার দায়িত্ব পারাপার করে দেওয়া, পারাপার করছি।

মো. রিয়াজ আরও বলেন, পাটাতনের সঙ্গে টেনে গরু উঠাতে হয়। দীর্ঘদিনের কাজ তাই সব কৌশলই জানি। নদী উত্তাল থাকলে গরু ভয় পায় তখন ট্রলার বন্ধ রাখি। আবার স্বাভাবিক হলে পারাপার করি। বড় ট্রলার হলে গরু ৩০/৩৫টি উঠে আর ছোট ট্রলারে ২০টি উঠে।

গরু ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর থেকে গরু আনি। কসাইদের কাছে বিক্রি করি অথবা নিজেরা রাখি। আবার কিছু খামারিদের কাছেও বিক্রি করি। হাতিয়ায় ট্রলার ছাড়া গরু আনা নেওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

চেয়ারম্যান ঘাটে ঘুরতে আসা নোমান খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি ঘুরতে এসেছি এখানে। দেখেছি ট্রলারে গরু উঠিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। যেভাবে উঠাচ্ছে তা দেখে খুব মায়া হলো। আসলে তারা বোবা এবং অবলা প্রাণী তাই বলতে পারে না। কিন্তু স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধি যারা আছেন তারা যদি ঘাট সংস্কার করে, তাহলে গরু, মানুষ হোক সবাই ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারবে।

আবু সাইদ নামের আরেক জন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গরু ত গরু। গরুর যে কী কষ্ট হয় তা বলে বোঝানো যাবে না, এখানে মানুষই পারাপার হয় এভাবে। ভালোভাবে ওঠার কোনো রাস্তা নাই।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী রফিকুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, হাতিয়া উপজেলা প্রাণীসম্পদের জন্য খুব সম্ভাবনার স্থান। দিন দিন সেখানে খামারিদের সংখ্যা বাড়ছে। বিপননের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিতে হয়। কিন্তু গরু, মহিষ, ভেড়া ট্রলারে পারাপারে খুব নিষ্ঠুর আচরণ করা হয় এবং তা ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে ঝুঁকিমুক্ত পরিবহন করতে হলে ফেরি বা সি বোটের প্রয়োজন আছে। তাহলেই গবাদি পশু নিষ্ঠুরতার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নৌ পারাপারের জন্য ফেরি দেওয়া যায় কিনা সেটা নিয়ে পর্যবেক্ষক দল সরেজমিনে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে এসেছেন। উনারা ফিজিবিলিটি টেস্ট করেছেন। তবে আমরা ফলাফল এখনো হাতে পাইনি। রিপোর্ট হাতে পেলে বোঝা যাবে কবে থেকে ফেরি চলাচল হবে। আমরা সবাই রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ © দৈনিক প্রতিদিনের বার্তা ©
Theme Customized By Shakil IT Park